মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

গ্রাম আদালত বিধিমালা-

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠনকল্পে প্রণীত আইন
 
যেহেতু দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়াবলী সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
 
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ
১৷(১) এই আইন গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে৷
 
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷
 
(৩) ইহা কেবলমাত্র ইউনিয়নের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় প্রযোজ্য হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
 
(ক) “আমলযোগ্য অপরাধ” অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধিতে সংজ্ঞায়িত Cognizable Offence;
 
১[ (খ) “ইউনিয়ন” অর্থ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৫) এ সংজ্ঞায়িত ইউনিয়ন;]
 
২[ (গ) “ইউনিয়ন পরিষদ” অর্থ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত ইউনিয়ন পরিষদ;]
 
(ঘ) “এখতিয়ারসম্পন্ন্ন সহকারী জজ” অর্থ যে সহকারী জজের এখতিয়ারভুক্ত সীমানার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নটি অবস্থিত সেই সহকারী জজ এবং যেক্ষেত্রে অনুরূপ এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক সহকারী জজ রহিয়াছেন সেইক্ষেত্রে অনুরূপ কনিষ্ঠতম সহকারী জজ;
 
(ঙ) “গ্রাম আদালত” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত গ্রাম আদালত;
 
(চ) “চেয়ারম্যান” অর্থ গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান;
 
(ছ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল;
 
(জ) “দণ্ডবিধি” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860);
 
(ঝ) “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908);
 
(ঞ) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
 
(ট) “পক্ষ” অর্থে এমন কোন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যাহার উপস্থিতি কোন বিবাদের সঠিক মীমাংসার জন্য প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হয়, এবং গ্রাম আদালত যাহাকে অনুরূপ বিবাদের একটি পক্ষ হিসাবে সংযুক্ত করে;
 
(ঠ) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Proecedure, 1898 (Act No. V of 1898);
 
(ড) “বিধি” অর্থ এই আইনে অধীন প্রণীত বিধি;
 
(ঢ) “সিদ্ধান্ত” অর্থ গ্রাম আদালতের কোন সিদ্ধান্ত৷
   
   
 
গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলা
৩৷ (১) ফৌজদারী কার্যবিধি এবং দেওয়ানী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত বিষয়াবলী সম্পর্কিত ফৌজদারী মামলা এবং দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত বিষয়াবলী সম্পর্কিত দেওয়ানী মামলা, অতঃপর ভিন্ন রকম বিধান না থাকিলে, গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য হইবে এবং কোন ফৌজদারী বা দেওয়ানী আদালতের অনুরূপ কোন মামলা বা মোকদ্দমার বিচার করিবার এখতিয়ার থাকিবে না৷
 
(২) ৩[ গ্রাম আদালতে তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত কোন ফৌজদারী মামলা বিচার্য হইবে না যদি উক্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে কোন সময়ে গ্রাম আদালত বা আমলযোগ্য অপরাধে অন্য কোন আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হইয়া থাকেন], অথবা তফসিলের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন মামলাও গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে না, যদি-
 
(ক) উক্ত মামলায় কোন নাবালকের স্বার্থ জড়িত থাকে;
 
(খ) বিবাদের পক্ষগণের মধ্যে সম্পাদিত কোন চুক্তিতে সালিশের বা বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান থাকে;
 
(গ) সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কর্তব্য পালনরত কোন সরকারী কর্মচারী উক্ত বিবাদের কোন পক্ষ হয়৷
 
(৩) যে স্থাবর সম্পত্তির দখল অর্পন করিবার জন্য গ্রাম আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইয়াছে, ঐ স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য বা উহার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোন মোকদ্দমা বা কার্যধারার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না৷
   
   
 
গ্রাম আদালত গঠনের আবেদন
৪৷ (১) যেক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোন মামলা গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য হয সেইক্ষেত্রে বিরোধের যে কোন পক্ষ উক্ত মামলা বিচারের নিমিত্ত গ্রাম আদালত গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদন করিতে পারিবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, লিখিত কারণ দর্শাইয়া উক্ত আবেদনটি নাকচ না করিলে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, একটি গ্রাম আদালত গঠন করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন৷
 
(২) উপ-ধারা (১) অধীন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশের বিরুদ্ধে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, এখতিয়ারসম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে রিভিশন করিতে পারিবেন৷
 
৪[ (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন রিভিশনের আবেদন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ উহা প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবেন।]
   
   
 
গ্রাম আদালত গঠন, ইত্যাদি
৫৷ (১) একজন চেয়ারম্যান এবং উভয়পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন করিয়া মোট চারজন সদস্য লইয়া গ্রাম আদালত গঠিত হইবেঃ
 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হইতে হইবে ৫[ :
 
তবে আরো শর্ত থাকে যে, তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত ফৌজদারী মামলার সহিত নাবালক এবং তফসিলের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার সহিত কোন নারীর স্বার্থ জড়িত থাকিলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে একজন নারীকে সদস্য হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করিবেন।]
 
(২) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্য্যন হইবেন, তবে যেক্ষেত্রে তিনি কোন কারণবশতঃ চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে অসমর্থ হন কিংবা তাঁহার নিরপেক্ষতা সম্পর্কে কোন পক্ষ কর্তৃক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় সেইক্ষেত্রে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সদস্য ব্যতীত উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোন সদস্য গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবেন৷
 
(৩) বিবাদের কোন পক্ষে যদি একাধিক ব্যক্তি থাকেন, তবে চেয়ারম্যান উক্ত পক্ষভুক্ত ব্যক্তিগণকে তাহাদের পক্ষের জন্য দুইজন সদস্য মনোনীত করিতে আহ্বান জানাইবেন এবং যদি তাঁহারা অনুরূপ মনোনয়নদানে ব্যর্থ হন তবে তিনি উক্ত ব্যক্তিগণের মধ্যে হইতে যে কোন একজনকে সদস্য মনোনয়ন করিবার জন্য ক্ষমতা প্রদান করিবেন এবং তদানুযায়ী অন

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter